শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৫ রমজান ১৪৪৭

বাজারে সবার আগে যে আম পাওয়া যায়

বাজারে সবার আগে যে আম পাওয়া যায় - ছবি : নতুন সূর্যোদয়

আমের রাজশাহীতে সবার আগে দেখা যায় গোপালভোগ জাতের আম। এই আমগুলো মাঝারি আকারের হয়, পাকা আমের রং হলুদাভ সবুজ, পাকলে খোসা পুরোপুরি হলুদ হয় না। এছাড়া গোপালভোগ জাতের আমের আঁটি পাতলা, আঁশ নেই ও মিষ্টি।

দেশে এর পর ওঠে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি আম। এই জাতের আমও পাকলে হলুদাভ সবুজ হয়, কখনো কখনো ময়লা হলুদ হয়। ক্ষীরশাপাতি আম মাঝারি আকারের হয়। এছাড়া কমলা শাঁস, খুব মিষ্টি, সুঘ্রাণযুক্ত ও সুস্বাদু। এটাই মনে হয় সেরা আম। আর ক্ষীরশাপাতি আমের আসল জায়গা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

ল্যাংড়া! এর আসে ল্যাংড়া। এই আম অনেকটা আয়তাকার গোল, হালকা সবুজ রঙের খোসা, পাকলেও হলুদ হয় না। আর খোসা পাতলা, হলুদ শাঁস, ভালোভাবে না পাকলে আম খেলে মুখ চুলকাতে পারে। সুঘ্রাণের সুখ্যাতি রয়েছে ল্যাংড়া আমের।

রাজশাহীতে এ সময় লক্ষ্মণভোগ বা লখনা আমও পাওয়া যায়। এ জাতের আম পাকলে উজ্জ্বল হলুদ হয়ে যায়, বোঁটার কাছে লালাভ রং ধরে। আর এ জন্য একে রঙিন আমও বলে। লক্ষ্মণভোগের ঘ্রাণ ভালো। দেশের আমের রাজধানীতে (রাজশাহী) পাওয়া যায় লখনা আম।

আমের মৌসুম এরপর ওঠে হাঁড়িভাঙা আম—রংপুর অঞ্চলে এ জাতের আম পাওয়া যায়। তবে ভরা মৌসুম শেষ হলেও গাছে ও বাজারে আরও কিছু জাতের আম থাকে।

দেশে কিছুটা নবীন জাত হিসেবে ইতিমধ্যে আম্রপালি যেন আমের রানি হয়ে উঠেছে দিন দিন। আর কেউ কেউ বলে রুপালি আম, আসলে আম্রপালি। তাই আম্রপালি ছিল প্রাচীন ভারতের সেরা নর্তকী।

অনেকে বলে তাই তার সম্মানে সেরা জাতের এই আমের নাম রাখা হয়েছে আম্রপালি। আম্রপালি আমের খোসা মসৃণ বা তেলতেলে, ছোট থেকে মাঝারি আকারের আম, পাকা আম হলুদাভ সবুজ, অগ্রভাগ কিছুটা সরু। আর এর শাঁস হয় কমলা ও অনেক মিষ্টি, পাকা আম্রপালি আম বেশ কয়েক দিন ঘরে রাখা যায়। দেশের সব খানে আম্রপালি আম পাওয়া যায়। তবে এখন পাহাড়ি অঞ্চলেও আম্রপালি ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে।

দেশের আমের জাতগুলির মধ্যে ফজলি ও আশ্বিনা এখনো জনপ্রিয়। বলতে গেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যত আম হয়, তার অর্ধেকই আশ্বিনা।

আশ্বিনা কালচে সবুজ রঙের আর ফজলি আম সবুজ রঙের। আশ্বিনা আমের স্বাদ টক-মিষ্টি, ফজলি টকগন্ধযুক্ত মিষ্টি স্বাদের বড় আম। এখন নাবি জাতের আম হিসেবে অনেকের কাছে প্রিয়।

রাজশাহীতে মাঝারি-বড় আকারের বারি আম-৪ জাত ও গৌরমতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ দুটি জাতের আমই সুমিষ্ট ও সুন্দর চেহারার। বছরে তিনবার ধরে, এমন জাত হিসেবে বারি আম–à§§à§§ ও থাইল্যান্ডের কাটিমন জাত চাষের প্রতি অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এছাড়া কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এ জাতের আমও বাজার থেকে কিনতে পারব। ছোট-বড় নানা আকার-আকৃতির আম রয়েছে এ দেশে। পাকা কাটিমন হলুদ সুঘ্রাণযুক্ত মিষ্টি।

দেশের সবচেয়ে বড় জাতের আমগুলো হলো ব্রুনাই কিং, বালিশা, আরাজান, বোম্বাই ফজলি ইত্যাদি। ব্রুনাই কিং আম লম্বাটে, মুখের দিকটা সরু, একটা আমের তিন-চার কেজি ওজন হয়। ফজলি আমও বড়, একটা আমের ওজন এক থেকে দেড় কেজি হয়ে থাকে।

 à¦¸à§‚ত্র: প্রথম আলো, যুগান্তর ও কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়

আরো সংবাদ


AD HERE