আজ পয়লা বৈশাখ, বাংলা সনের প্রথম দিন

আজ পয়লা বৈশাখ, বাংলা সনের প্রথম দিন - ছবি : নিউজমিডিয়া24

আজ পয়লা বৈশাখ, বাংলা সনের প্রথম দিন। স্বাগতম ১৪৩১ বাংলা নববর্ষ! শিশু-যুবা-বৃদ্ধসহ সব বয়সের এবং সব শ্রেণীর মানুষ এ দিনটি উদযাপন করে। বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। নববর্ষ উদযাপন বাঙালি সংস্কৃতির বিশেষ অনুষঙ্গ হয়েছে। দিনটি উদযাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতির একটি অন্যতম উপাদান। এ উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ বৈশাখী মেলা। বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে গ্রাম-গঞ্জে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলায় কৃষিজ পণ্য, কুঠির শিল্প দ্রব্য, মৃৎ ও হস্তশিল্প দ্রব্য প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, খেলনা ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের ধুম পড়ে। আগের দিনে মেলায় ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, লাঠি খেলা, বলীখেলা ইত্যাদি বিনোদন অনুষ্ঠান প্রদর্শনী হতো। তখন মেলা ছিল বাঙালির প্রাণের উৎস। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা হতো। আর বিবাহিতা মেয়েরা বাপের বাড়িতে নাইওর যেত। আবালবৃদ্ধবণিতা সবাই মেলায় আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠত। আগের দিনে মেলার সময় বাংলার গ্রামে গ্রামে আনন্দের ধুম বয়ে যেত। মেলায় লাঙল, জোয়াল, মইসহ বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জামাদি, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র, শিশুদের খেলাধুলার জন্য ঘুড়ি, মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া ইত্যাদি বেচা-কেনা হতো। মেয়েদের হাতের চুড়ি, কানের দুল, গলার হার, প্রসাধনী সামগ্রীও মেলায় বেচাকেনা হতো। এ ছাড়া জুড়ি-বুন্দি, জিলাপি, রসগোল্লা ইত্যাদি মুখরোচক খাবারের সমারোহ তো ছিলই। তবে সব মেলা নববর্ষ উপলক্ষে পয়লা বৈশাখে কিংবা একই দিনে হতো না বরং চৈত্র সংক্রান্তি, বারুনিসহ বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সময়ে হতো। নববর্ষ উপলক্ষে আমানি, রাজপুণ্যাহ, হালখাতা, গাজনের গান ইত্যাদি গ্রামীণ অনুষ্ঠান মাসজুড়ে চলত।

আরো সংবাদ


AD HERE