শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৫ রমজান ১৪৪৭

সমাজে বিকৃতির বিস্তার ঘটছে

সমাজে বিকৃতির বিস্তার ঘটছে - ছবি : নিউজমিডিয়া24

ইংরেজি একটি বাক্য ‘ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’। অর্থাৎ যন্ত্রের পেছনে থাকা মানুষটি। এটি শুধু একটি বাক্য নয়। এর দোতনা অনেক ব্যাপক, সেই সাথে ‘ইলামট্রিসিটি’ও বিস্তর। এই বাক্যকে টেনে অনেক দূর পর্যন্ত নেয়া যায়। তার ব্যাখ্যাও নানা ধরনের হতে পারে। তবে তার অর্থ ব্যাখ্যা অবশ্যই ইতিবাচক হওয়া বাঞ্ছনীয়, নেতিবাচক নয়। একে যদি নেতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, সেটি হবে বিকৃতি, অনাকাঙ্ক্ষিত।

যাই হোক, যন্ত্রের পেছনে থাকা মানুষটির গুরুত্ব ও মূল্য অনেক ক্ষেত্রেই যন্ত্রের চেয়ে কম নয়; বরং বেশি। সেই মানুষটির ভূমিকার ওপরই যন্ত্রের সচল থাকা কারিগরি সক্ষমতা প্রদর্শন অনেকখানি নির্ভর করে। আর যদি একে সমাজের মধ্যে নিয়ে উপস্থাপন ও বিস্তরণ ঘটানো হয়। তার ব্যাখ্যা হতে পারে সমাজের শৃঙ্খলা বিধান, মূল্যবোধের বিকাশ, সুষ্ঠু সচল সবল এবং গতিশীল করা। সমাজের সেসব প্রতিষ্ঠান, সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ও তার সহযোগিতাই মূলত সমাজযন্ত্রের পেছনে থাকা ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টি। সে জন্য ওই সব ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সমাজকে বিন্যস্ত করে যে প্রতিষ্ঠান যত চমৎকারভাবে চলতে ফিরতে পারে। তার দায়িত্বগুলো সুষ্ঠুভাবে আদায় করতে সক্ষম। তার অর্থ সমাজযন্ত্রের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের দক্ষতা সক্ষমতাকে বোঝায় আজ কি কেউ বলতে পারবেন, সমাজযন্ত্রগুলো বিরামহীনভাবে নির্ভুলভাবে কাজ করছে। সব কিছু চকচকে ঝকঝকে মনে করার কোনো অবকাশ এখন বিদ্যমান। অনেকেই সে কথা বলতে পারবেন না। কারণ সর্বত্রই সমাজযন্ত্রের পেছনে থাকা মানুষগুলো তাদের সক্ষমতা দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। অবশ্যই তাদের যথেষ্ট দুর্বলতাই দায়ী। সেটুকু তারা করছেন না বা করতে পারছেন না। সে কারণে কোনো সফলতার দেখা মিলছে না। সেসব নির্বাহী যতই মন্দ করুন, তা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই; অর্থাৎ কেউই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন না। সরল কথা হচ্ছে, সমাজ থেকে এখন জবাবদিহির সংস্কৃতির ইতি ঘটেছে বলা চলে। এটি শুধু কোনো এক স্থানে স্থির হয়ে আছে, তা শুধু নয়। সর্বত্রই ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবখানেই এর বিস্তার ঘটেছে। এর ফলে যা অনিবার্য, সেটি অব্যবস্থা, অনিয়ম, আত্মসাৎ আরো হরেক রকমের মুসিবত। ফলে মানুষ তার চাওয়া-পাওয়ার সাথে বাধ্য হয়ে আপস করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে কেউ চরম নিরুৎসাহীও হয়ে পড়ছে। এমন মনোভাব তৈরি হয়েছে, আমরা আর কিছু বলব না দিনের শেষে সব মানিয়ে নেবো। এর ফলে একটি অপবিত্র বিনিময়কে এখন আর গর্হিত কাজ বলে মনে করছেন না কেউ। এতে সমাজ গোল্লায় যাক, মানুষ দুর্ভোগ দুর্বিপাকে পড়–ক দুর্জনদের দৌরাত্ম্য সীমাহীন হোক। সে জন্য কারো ভ্রূকুঞ্চন নেই। এমন পরিস্থিতি আসলে একটি সমাজের ভেঙে পড়ার পূর্বক্ষণ বলে মনে করা হয়।

আরো সংবাদ


AD HERE