তফসিলের আগেই ঢাকায় বৃহত্তর আন্দোলন
- Tue, 03 Oct 2023
- এক দফা দাবি মানতে আলটিমেটাম দেবে বিরোধীরা
-একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ না নিতে ইসিকে দেয়া হবে স্মারকলিপি
তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারবিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়ে ঢাকায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় হওয়া না পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
জানা গেছে, বৃহত্তর ও লাগাতার কর্মসূচির আগে ঢাকায় বড় সমাবেশ থেকে দাবি মানতে আলটিমেটাম দিতে পারে বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা। ২০ অক্টোবরের আগেই এই সমাবেশ হতে পারে। দুর্গাপূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত এ আলটিমেটাম চলতে পারে। দাবি না মানলে পূজার পর থেকে চূড়ান্ত ধাপের আন্দোলনে পা রাখবে বিএনপি, যা আগামী নভেম্বর মাসের প্রথমে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এমনকি তফসিলের পরেও চলতে পারে। এর আগে ঢাকায় যুব ও ছাত্র কনভেনশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর স্মারকলিপির কর্মসূচিও দিতে পারে বিএনপি। সরকারকে আলটিমেটাম দেয়ার আগে চলতি মাসে পর্যায়ক্রমে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে ফাঁকে ফাঁকে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচিও চলতে থাকবে।
এক দফা দাবিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রথম ধাপে এখন রোডমার্চ ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম অঞ্চলে রোডমার্চের মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ের কর্মসূচি সমাপ্ত হবে। এরই মধ্যে রাজধানী ও এর আশপাশের জেলায় আটটি সমাবেশ হয়েছে। রোডমার্চ হয়েছে চারটি। এ ছাড়া ঢাকায় মহিলা সমাবেশ, শ্রমিক কনভেনশন ও কৃষক সমাবেশ হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকায় পেশাজীবী কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে গত ১২ জুলাই থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। দলটির নেতাদের মূল্যায়ন, এসব কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। শ্রমিক কনভেনশনের মধ্য দিয়ে এক দফার চলমান আন্দোলনে আগামীতে শ্রমিক শ্রেণীর অংশগ্রহণ আরো বাড়বে। এতে করে আন্দোলন আরো বেগবান হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বিএনপির রোডমার্চ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। অথবা প্রথম ধাপের কর্মসূচি শেষে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেও ঘোষণা করা হতে পারে আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপের আংশিক কর্মসূচি। গত কয়েকদিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে যুগপতের শরিকদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করে বিএনপি। তাদের দেয়া বিভিন্ন প্রস্তাবনা সমন্বয় করে চূড়ান্ত আন্দোলন পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে দলটি।
বিএনপির সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের কর্মসূচি শেষে ৭ অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত ধাপের আন্দোলন শুরু হতে পারে। ১৮ অক্টোবরের দিকে সরকারকে পদত্যাগে আলটিমেটাম দেয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও কিছু কর্মসূচি হতে পারে। তবে আলটিমেটাম শেষে কর্মসূচি হবে ঢাকাকেন্দ্রিক। তখন সারা দেশের নেতাকর্মীরা ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এর আগে গত ২৭ জুলাই ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এক দিন পিছিয়ে পরদিন ২৮ জুলাই নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ওই মহাসমাবেশ করে দলটি। সেখান থেকে সরকারকে পদত্যাগে আলটিমেটাম দিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনা ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছিল দলটি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশের মারমুখী ভূমিকা এবং নেতাকর্মীরা ব্যাপক হারে রাজপথে না নামায় তখন ওই কর্মসূচি সফল হয়নি। চূড়ান্ত আন্দোলন সামনে রেখে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কিছু সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় দলটি। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই চূড়ান্ত আন্দোলন পরিকল্পনা সাজিয়েছে দলটি।



