স্থবির প্রকল্পে খরচ বাড়ছে ৯১ শতাংশ
- ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৬ ভাদ্র ১৪৩১, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরি
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেয়া বেশির ভাগ প্রকল্প যেন ঝিমুনি রোগে আক্রান্ত। লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে নেয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মূল প্রকল্পের এক্সটার্নাল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনকার্যক্রম স্থবির অবস্থায় রয়েছে। দুই বছরের এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। দুই বছরে খরচের অগ্রগতি মাত্র ০.০১ শতাংশ। এখন প্রায় বন্ধ থাকা এই প্রকল্পের খরচ ৩৭৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা থেকে ৯১ শতাংশ বাড়িয়ে ৭২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করা হচ্ছে। আর প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো সোয়া দুই বছর সময় বাড়ানো হচ্ছে বলে প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে। বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের নেটওয়ার্ক ডিজাইন চূড়ান্তকরণে রাশান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধে আরোপিত শর্তগুলো পরিপালন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ক্রয় সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া সম্পাদন সত্ত্বেও রাশিয়ার পরামর্শক ফার্মের সাথে চুক্তি করতে না পারায় দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায় বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা বলেন, এখন নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দেয়া সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অত্যাধুনিক ও উচ্চগতিসম্পন্ন এক্সটার্নাল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় ২০২২ সালের মার্চে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আওতায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এক্সটার্নাল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ৩৭৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়। বাস্তবায়নের জন্য সময় ধরা হয় এপ্রিল ২০২২ থেকে মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত। পুরো মেয়াদে অর্থাৎ মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে মাত্র চার কোটি ৮২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ফলে আর্থিক ও বাস্তব উভয় ক্ষেত্রে অগ্রগতি ০.০১ শতাংশ। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর এর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১৮৪ কোটি দুই লাখ টাকা বরাদ্দসহ এটি চলমান প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন খরচ ৯১.০৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আর বাস্তবায়নের মেয়াদও আরো সোয়া দুই বছর বা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য বলছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।



