বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হলেও প্রাথমিক জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়নি
- ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৫ ভাদ্র ১৪৩১, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরি
- নবায়নযোগ্য প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে
- প্রতি বছর সাশ্রয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকা
দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে বিনা টেন্ডারে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছিল বিদায়ী সরকার। কিন্তু এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য যে পরিমাণ প্রাথমিক জ্বালানি দরকার তা নিশ্চিত করা হয়নি। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার বা দেশীয় কয়লা উত্তোলনের জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য জ্বালানি আমদানিতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন দিতে যেমন আগ্রহ দেখা যেত, প্রাথমিক জ্বালানি নিশ্চিত করতে তেমন আগ্রহ দেখা যেত না। ফলে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে দেশীয় কয়লা ও গ্যাস উত্তোলনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ওপর জোর দিতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৪৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ডিজেল, ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৬, আর গ্যাসভিত্তিক রয়েছে ৬০টি। দেশীয় গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসার কারণে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন পাওয়ায় এক দিকে যেমন সরকারের বিভিন্ন মহল হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে তেমনি অন্য দিকে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের কষ্টের টাকা এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক ও সরকার দলীয় লোকদের পকেটে গেছে। ফলে হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদ্যুৎ খাত এখন কঠিন চাপের মুখে পড়েছে।



