মহামন্দার হতাশা, খাদের কিনারে দেশ
- ০৫ জুলাই ২০২৪, ২১ আষাঢ় ১৪৩১, ২৮ জিলহজ ১৪৪৫
দেশের মানুষ কেমন আছেন তা বোঝার জন্য আপনি যদি মাত্র কয়েক মিনিট জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টো দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গেটের কাছে দাঁড়ান বিশেষ করে সকাল ১১-১২টার দিকে, তবে মুহূর্তের মধ্যেই দেশের পুলিশ প্রশাসন-লোকজনের অভ্যাস এবং সরকারের চেইন অব কমান্ড টের পেয়ে যাবেন। তোপখানা রোডের সাথে সেগুনবাগিচার যে সংযোগ সড়ক রয়েছে, সেখান দিয়ে উল্টোপথে বাস-গাড়ি-রিকশাসহ সাধারণ পথচারী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গেটের সামনে দিয়ে হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয়সহ প্রেস ক্লাবে যাওয়ার জন্য যে জটিল ঘূর্ণিপাক তৈরি করে তা নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো কর্তৃপক্ষ-শৃঙ্খলা বাহিনী অথবা জনগণ আমার চোখে পড়েনি। ফলে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজন নিয়তির ওপর ভরসা করে প্রকৃতির ওপর নিজেদের সঁপে দিয়ে প্রতিদিন প্রতিজনে কয়েক ঘণ্টার শ্রমঘণ্টা নষ্ট করে সরকারের মহা উন্নয়নের জিকির করতে বাধ্য হয়।
উল্লিখিত স্থান পার হয়ে আপনি জাতীয় ঈদগাহের সদর দরজার সামনে দিয়ে আমাদের হাইকোর্ট চত্বরের চারপাশটি একটু ঘুরে আসতে পারেন। চত্বরের বাইরে যে সীমান্ত দেয়াল রয়েছে সেখানে একটু পরপর মনুষ্য বিষ্ঠা বা মানুষের মলমূত্রের সমাহার আপনাকে দেশের উন্নয়ন-রুচি-অভিরুচির কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। জাত বেজাতের ভিখেরি, সাধু-সন্নাসী, ছিন্নমূল মানুষের বসবাস এবং সেসব মানুষের বর্জ্যরে সাথে ধুলোবালি-লতাপাতা-কফ-থুতু আমাদের একটি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বহিরাঙ্গনকে কিভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে তা অনুধাবন করে এবার হাইকোর্ট চত্বরের ভেতরে প্রবেশ করুন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা, গাছগাছালির ঝরাপাতার পচা স্যাঁতসেঁতে গন্ধের সাথে বিচারাঙ্গনের পবিত্রতার মিল খুঁজতে খুঁজতে আপনি ধানমণ্ডির সুধা সদনের সামনে চলে যান।
সুধা সদন হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি। এই বাড়ির নিরাপত্তার জন্য পুলিশ-সেনাবাহিনী এবং সরকারের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরাট একটি দল দিন-রাত সেখানে কর্তব্যরত রয়েছেন। তারা সব কাজ করেন অর্থাৎ আহার-বিহার-বিশ্রাম থেকে শুরু করে অন্যান্য মানবিক বায়োলজিক্যাল এবং রাসায়নিক কর্মাদি। কিন্তু ভবনের চারপাশের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তারা এতটাই উদাসীন যে, সুধাসদন দেখে কেউ বুঝতেই পারবেন না এটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি যা রাষ্ট্রীয় তদারকিতে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখানে ময়লা আবর্জনা-ধুলাবালি-গাছের ঝরাপাতা এবং কুকুর বিড়ালের অভয়ারণ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করে আপনি চলে যান প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের সামনে।
গণভবনের সামনের দৃশ্য, পুলিশের কাঁটাতারের বেড়া, বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি প্লাস্টিক বা টিন দিয়ে বানানো ব্যারিকেডের সৌন্দর্য পুরো গণভবনের জৌলুশ দিল্লির রাজভবন, লালকেল্লা, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে রীতিমতো লজ্জায় ফেলে দেবে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উল্লিখিত স্থান ও স্থাপনার হালহকিকতের মধ্যেই আপনি জনগণের হতাশা এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অযোগ্যতা অদক্ষতা এবং যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন তাদের রুচি-অভিরুচির পরিচয় পেয়ে যাবেন।



