শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৫ রমজান ১৪৪৭

নির্বাচনের পোস্টমর্টেম

নির্বাচনের পোস্টমর্টেম - ছবি : নিউজমিডিয়া24

আওয়ামী লীগ নির্বাচন করিয়েই নেবে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন দেবে জিততে, হারতে নয়। একথা বহুবার উচ্চারিত হয়েছে। এখন দেখার, কেমন হলো নির্বাচনটি। দেশের রাজনীতি এখন দু’টি বৃহৎ ধারায় বিভক্ত- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এই সাথে চরম বাম ও চরম ডান থাকলেও তারা মেইন স্ট্রিমে নেই; বরং কোনো কোনো চরম বাম ও চরম ডান দল বড় দুই দলের সাথে শামিল হয়ে আনন্দে ঢেঁকুর তুলতে আরামবোধ করে। ফলে দেশের রাজনীতিতে বাম এবং ইসলামী আদর্শের স্বতন্ত্র ধারাটি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী কিছুটা সবল থাকলেও প্রথমটির জনসম্পৃক্তিহীনতা এবং পরেরটি নিবন্ধন জটিলতাসহ নানা সমস্যা মোকাবেলায় জেরবার।

নির্বাচন নিয়ে মোটাদাগে কয়েকটি প্রশ্ন বহুল আলোচনায় এসেছে। এগুলো এক এক করে দেখা যেতে পারে। আমরা বাকশালের অধীনে কোনো নির্বাচন পাইনি। এর বিরূপতা নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। বাকশালের নির্বাচনের ধরনটি চীনের মতো ভাবা যায়। বহুদল আছে, বিরোধী দল আছে- কিন্তু সবই সরকারনিয়ন্ত্রিত। এবারের নির্বাচনটি তেমন মনে করার কারণ আছে- ফলে বাকশালের নির্বাচনী আস্বাদ আছে এই নির্বাচনে, এমনই মনে করছে বহুজন। অধ্যাপক আসিফ নজরুল একটি টকশোতে বলেছেন (বিবিসি বাংলায়), একজন মাত্র ভোট দিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী- তিনি যাকে চেয়েছেন, তিনিই এমপি হয়েছেন। তাকে ড. মিজান প্রশ্ন করেছেন, পিএম কি মন্ত্রীদের হারিয়ে দিতে বলেছেন? নজরুলের উত্তর ছিল- যাকে দরকার মনে করা হয়েছে তাকে জেতানোর জন্যই এটি ঘটেছে। তিনি সৈয়দ ইবরাহিম আর শাহজাহান ওমরের উদাহরণ টেনেছেন। দলীয় তথা নৌকার অর্ধশতাধিক প্রার্থী হেরেছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্রী-প্রার্থীর কাছে। হেরে যাওয়া সবাই দলীয়প্রধানের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে মাঠপর্যায়ে দলীয় অবস্থা বিবেচনার চেয়ে একজনের ইচ্ছেতেই মনোনয়ন হয়েছে- এখানেই আসিফ নজরুলের কথার সারবত্তা।

উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে কর্তৃত্ববাদের কথা নেই, কিন্তু চলছে। কেউ কেউ বলেন, আমাদের সংবিধানেও কর্তৃত্ববাদের গন্ধ আছে; স্মর্তব্য, সংবিধান প্রণয়নকালে চোখের সামনে সেই অর্থে বিরোধী দল ছিল না। দুর্জনরা এ কথাও বলে, দুটো সামরিক শাসনের উদয় না ঘটলে ’৭৩ থেকে একটি দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকত। হ্যাঁ, পাঁচ বছর অন্তর একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন হতো। এমনও বলতে শুনেছি, ১৯৯৬ সালে মাগুরা না হলে কেয়ারটেকার হতো না এবং ’৯৬-এর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জিতে এসে আওয়ামী লীগই আজ অবধি দেশ চালাত। এখন সেটিই হচ্ছে।

আরো সংবাদ


AD HERE