রবিবার, ২৮শে জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ || ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ই মহররম ১৪৪৮ হিজরি

বগুড়ার কাহালুতে ২ শতাধিক বসতভিটায় পানি

বগুড়ার কাহালুতে ২ শতাধিক বসতভিটায় পানি - ছবি : নিউজমিডিয়া24

দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল গ্রামের ফকির পাড়া, খাঁ পাড়া ও প্রামানিক পাড়ার দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটায় পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ধসে যাচ্ছে। ব্যাপক জলাবদ্ধতায় গবাদি পশু গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।

প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি মুরইল ও ভাগদুবড়া মৌজার দুই ফসলি ধানী জমি ক্রয় করে বর্ষার পানি নিষ্কাশনের নালা, ড্রেন বন্ধ করে পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

দু’দিনের বৃষ্টিপাতে মুরইল ফকির পাড়া, খাঁ পাড়া ও প্রামানিক পাড়ার দুই শতাধিক বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে মাটির বাড়ি ধসে যাচ্ছে। পরিবারের রান্নার কাজ, গবাদি পশু গরু-ছাগল, হাস-মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন লোকজন। পুকুরের মাছ ভেসে যাচ্ছে, শিশু সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছেন তারা। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভুগী গ্রামবাসী কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মুরইল বড় মসজিদ থেকে ওই তিন পাড়ার প্রবেশের ইট সোলিং রাস্তাগুলো পানিতে তলে গেছে। রাস্তায় কোনো প্রকার যাবাহন দুরের কথা,পায়ে হেঁটে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার ওপর হাঁটু পানি। নারী এবং ছোট শিশুরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। গোটা এলাকার অলিগলি বসতভিটার আঙ্গিনায় হাঁটু পানি। মানুষ পানির ভেতর হাতিয়ে হাতিয়ে পথ চলছে।

ফকির পাড়ার ওমর ফারুক, আব্দুল ওযাদুদ ও নুরুল ইসলামসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, আমরা বাব-দাদার আমল থেকে এখানে বসবাস করে আসছি, আনেক বড় বড় বন্যা হয়েছে কিন্তু কখন আমাদের পাড়ায় বা বসতভিটায় এভাবে পানি উঠেনি বা প্রবেশ করনি।

তাদের অভিযোগ জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশল করে দুই ফসলি আবাদি ধানী জমি ক্রয় করে পুকুর খনন করে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নালা ড্রেন বন্ধ করায় আমাদের এই চরম অবস্থা।

জাহিদুর রহমান জানান, বসতভিটায় পানি উঠায় দু’দিন ধরে রান্নার চুলা জ্বালাতে পারিনি। ফারুকের একটি গোয়াল ঘর ইতিমধ্যে ধসে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি বাড়ির মাটির ঘরে ফটল ধরেছে। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় মুরইল ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল জলিল বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেরিনা আফরোজের সাথে মোবাইলে কথা বলা হলে তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

আরো সংবাদ


AD HERE