দুর্নীতির মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ
- ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ১৮ আশ্বিন ১৪৩১, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরি
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আবদুল জব্বার জলিল কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল। স্মারকলিপিতে বিমানবন্দরের চলমান উন্নয়নকাজে ২ হাজার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়।
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক মইদুর রহমান মো: মওদুদ। তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমেই হালনাগাদের জন্য নকশাকার নিয়োগ করা হয়। কাউকে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো কাজ হয়নি। আমরা দ্রুত উন্নয়নকাজ শেষ করতে কাজ করছি। এ ছাড়া নকশা থেকে কোনো কিছু বাদ দেওয়ার বিষয়টিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
এ দিকে স্মারকলিপিতে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেটের সাবেক সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে আসছেন। বিগত সরকারের আমলে ২ হাজার ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও দেশী-বিদেশী ফ্লাইট চালুর জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়। ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ মের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষে পার হয়েছে আরো এক বছর, তবু কাজ হয়েছে মাত্র ২২ শতাংশ । প্রকল্পের ২০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর এটি ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন’-এর মানদণ্ডে হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ধরা পড়েছে।
বিভিন্ন সূত্র ও ব্যক্তির সাথে আলোচনা করে আবদুল জব্বার জলিলের কাছে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ধরা পড়েছে বলে স্মারকলিপিতে জানিয়েছেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা এসব অনিয়মের মধ্যে প্রথমটি হলো ‘প্রকল্প শুরুর আগেই ইকুইপমেন্ট মোবিলাইজেশন বাবদ অগ্রীম ২১২ কোটি টাকা নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (বিইউসিজি)। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ২২ শতাংশ কাজ হয়েছে বললেও অভিযোগকারীর ধারণা, এখনো প্রতিষ্ঠানটি ১০০ কোটি টাকার বেশি কাজ করেনি।



