রবিবার, ২৮শে জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ || ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ই মহররম ১৪৪৮ হিজরি

কঠিন কাজে ডক্টর ইউনূসের নরম হাত

কঠিন কাজে ডক্টর ইউনূসের নরম হাত - ছবি : নিউজমিডিয়া24

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে আসার পর এটি জাতির উদ্দেশে তার দ্বিতীয় ভাষণ। এর আগে গত ২৫ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি।

ধ্বংস হয়ে পড়া একটি জনপ্রশাসনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন উল্লেখ করে তার ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, ‘মন্ত্রণালয়গুলোর উচ্চতম পদে যারা নিয়োজিত ছিলেন তারা অনেকে দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছেন কিংবা পদে থাকলেও সহকর্মীদের চাপের মুখে কাজ করতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেছেন।’ শুরুতে কিছু না বললেও এসব বিষয়ে এখন একটু একটু করে কথা বলতে শুরু করেছেন ড. ইউনূস। দ্বিতীয় ভাষণে এসে বলেছেন আরো বেশি করে। পুরো ভাষণটি পড়লে বা শুনলে এই উপলব্ধিতে আসা যায়, সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আর বলার কিছু বাকি নেই। জাতির উদ্দেশে দ্বিতীয় ভাষণে এসে সব বলে দিয়েছেন। এর আগে প্রথম ভাষণে কিছু বিষয় বাকি বা অসমাপ্ত ছিল। সংবাদ সম্মেলন এবং নানা অনুষ্ঠানে এক এক বিষয়ে বলেছেন। দ্বিতীয় ভাষণে এসে সবিস্তারে সব বলেছেন। তার ইমামতিতে রাষ্ট্র মেরামতের ছয় কাণ্ডারির ছয় কমিশনের কথাও জানিয়েছেন। লোক বাছাইতেও দেখিয়েছেন বেশ ক্যারিশমা। এই বিশিষ্ট ছয়জনের নতুন করে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে না। সেই কবে থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মাথা ঠুকরে চলছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। নির্বাচনবিষয়ক কমিশনের কাণ্ডারির দায়িত্ব তাকেই দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ক প্রচুর হোমওয়ার্ক বদিউর রহমানের। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি জীবন্ত কিংবদন্তি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ উপড়ানোর আহ্বান ও তাগিদের ফেরিওয়ালা টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামানকে দেয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব। পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধানের দায়িত্বে সাবেক স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন সচিব সফর রাজ হোসেন। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী। আর সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান শাহদীন মালিক। এই হাফ ডজন ব্যক্তির দায়িত্ব বণ্টনে একটি প্রশ্নের কিঞ্চিত ফয়সালাও হয়ে গেল। প্রশ্ন ছিল- সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেবো কোথা? মানে সংস্কারের বটম লাইন হবে কোথায়? কোন জায়গা বা ক্ষেত্র দিয়ে শুরু হবে কাক্সিক্ষত সংস্কারটি? প্রশ্নটির জবাব মিলছিল না। তাদের দায়িত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে মোটামুটি খোলাসা হয়েছে, কোনো জায়গাই বাদ দেয়া হবে না। নির্বাচন, সংবিধান, বিচার, দুর্নীতি দমন, সিভিল-পুলিশ ছয়টি বিভাগেই মেরামত চলবে। আর এই ক’টি সেক্টরে সংস্কার হলে তেমন কিছু বাকি থাকে না।

আরো সংবাদ


AD HERE